প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৪৫ এএম
এনআইডিতে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকান
বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা নানাভাবে সামজিক সমস্যা তৈরি
করছে। দেশের ভেতরে যেমন তারা বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মাঝে সংঘাতে জড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির
অবনতি ঘটাচ্ছে, তেমনি তারা নানাভাবে ও কৌশলে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বিদেশে
পাড়ি জমাচ্ছে। বিদেশের মাটিতেও নানাভাবে তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহারের মাধ্যমে
নানান অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। অন্য দেশের নাগরিকদের আমাদের পাসপোর্ট সংগ্রহ অপরাধ। এ অপরাধে
রোহিঙ্গারা যেমন জেড়াচ্ছে, তেমনি দেশের নির্বাচন কমিশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীও
জোগসাজশে তাদের পাসপোর্ট পাইয়ে দিচ্ছে।
ডাকাতি, ইয়াবা ও অস্ত্রের কারবারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গারা
অর্ধ দশক পেরিয়ে গেলেও নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেনি। মিয়ানমারও উদ্যোগ নেয়নি। এর ফলে
দেশের ভেতরে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নানা অপকর্ম করার সাহস পাচ্ছে। আশ্রিত এই রোহিঙ্গাদের
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন (এনআইডি) কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন
(ইসি) সম্প্রতি উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এ সংক্রান্ত
চিঠিতে ইসি বলছে, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়ে যদি কেউ সহযোগিতা অথবা মিথ্যা তথ্য
দেয় অথবা জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে অথবা সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়, তাদের
বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা আইন-২০০৯, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন-২০১০ এবং প্রচলিত অন্যান্য
আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা দায়ের হবে।
আমরা অবিলম্বে এই উদ্যোগটির কার্যকারিতা দেখতে চাই। বিভিন্ন সময়ে
অভিযোগ উঠেছে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে, তাদের হাতে পাসপোর্ট তুলে
দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ সদস্য, নির্বাচন কমিশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কিছু
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাঠপর্যায়ের দালাল চক্র জড়িত। ইতোমধ্যে এ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির
মাধ্যমে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশের এনআইডি পাওয়ার মতো উদ্বেগজনক তথ্য সংবাদমাধ্যমে
এসেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য শঙ্কার। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা, দ্রুত শনাক্তকৃত
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের
দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নেবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আর দীর্ঘায়িত
করার সুযোগ নেই।
শ্রমিকের স্বার্থ বিবেচনায় আনুন
আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তৈরি পোশাক খাতে। বারবার এই খাতটি অস্থিতিশীল
হয়ে উঠছে। শ্রমিক অসন্তোষ স্বাভাবিকভাবেই শিল্পমালিক ও সরকারের জন্য উদ্বেগের। এ খাতে
এমন অস্থিরতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নৈরাজ্য-অস্থিরতা পোশাক খাতের জন্য শঙ্কার। শ্রমিক
আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের পোশাক খাত। অস্থিরতায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
সময়মতো শিপমেন্ট হচ্ছে না। মালিকপক্ষকে নিতে হচ্ছে বাড়তি খরচের বোঝা।
দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাক শিল্পের বিকল্প নেই। দেশের অর্থনৈতিক
উন্নয়নে বিদেশ থেকে যে রেমিট্যান্স আসছে তার অন্যতম হলো পোশাক খাত। এ শিল্পকে টিকিয়ে
রাখতে হবে। এজন্য শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদেরও মনে রাখতে
হবে কারখানা এবং উৎপাদন ব্যবস্থার ক্ষতি করে হক আদায় করা সম্ভব হবে না। উভয় পক্ষই প্রয়োজনীয়
ছাড় দিয়ে দেশের স্বার্থে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুন।
নিশ্চিত করতে হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল নজির বাংলাদেশ।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে আমাদের সুনাম রয়েছে। বছরের পর বছর এখানে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-সম্প্রদায়
নির্বিশেষে মানুষ চমৎকার সম্প্রীতিময় সমাজে বাস করছে। যাতে করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের
জন্য গড়ে উঠেছে সৌভ্রাতৃত্বের পরিবেশ। মানুষে মানুষে গড়ে উঠেছে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
মুক্তিযুদ্ধে এদেশের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে
পড়েছিল। বুকের রক্ত দিয়ে অর্জন করেছে স্বাধীনতা।
অথচ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
নষ্টের অপচেষ্টা লক্ষ করা যায়, যা আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
রক্ষার পরিবেশ যারা নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের বিরুদ্ধে
কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনোভাবেই দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। যারা ধর্মীয়
সম্প্রীতি নষ্ট করতে লিপ্ত তারা দেশ, জাতি ও সব ধর্মের শত্রু।